Skip to main content

ঘি বনাম মাখন

দুধের পরেই দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হল ঘি ও মাখন। তবে এগুলো কি সবার জন্য একই রকম ভালো , না শারীরিক অবস্থাভেদে পার্থক্য হতে পারে সে নিয়ে কিছুটা বিতর্ক সব সময়েই রয়েছে। তাই এই দুইটি খাবারের গুণাগুণ জানাচ্ছে অর্থসূচক-


Image result for ঘি 

ঘি
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় রান্নাঘরে ঘিয়ের কদর বেড়ে গেছে। খাবারের স্বাদ- গন্ধ বৃদ্ধিতে ঘি এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী রান্নায় বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলার বহু রান্নায়, মূলত গুরুপাকখাবারগুলোতেই ঘি ব্যবহৃত হয়ে খাদ্যরসিক বাঙালির রসনার তৃপ্তি ঘটিয়ে আসছে।

এমনিতে বছরের পর বছর ধরে আমাদের ওজন বৃদ্ধির জন্য ঘিকে দায়ী করা হয়েছে। পরে এখন অবশ্য এ ধারণা পাল্টে গেছে। বর্তমানে ঘিকে এখন সর্বশ্রেষ্ঠ খাবারের একটি বলা হয়। তবে এটা সত্য, ঘি আমাদের অন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং চামড়া জন্য চমত্কার। ঘিকে স্বাস্থ্যকর হিসেবেই সারা বিশ্বের পুষ্টিবিদরা সুপারিশ করছে। কম চর্বি থাকাতে প্রতিদিন অল্প করে ঘি খাওয়া যেতে পারে। এমনকি শিশুরাও প্রতিদিনকার খাবারের সাথে ঘি খেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে শরীরে কোলেস্টেরল কমানোর জন্য এবং পর্যাপ্ত কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করার জন্য ঘি একটি ভাল উপাদান হতে পারে বলেছেন পুষ্টিবিদ ড. রুপালি দত্ত।

Image result for মাখন 

মাখন

পুষ্টির দিক থেকে ঘি না মাখন ভালো? বা এর স্বাদ-ই বা কেমন? স্বাদ আর পুষ্টিতে ভরা মাখন সকালের নাশতায় অনেকেই খেয়ে থাকেন। সেসব মাখন বাজার থেকে কিনে আনা হয়। কিন্তু বাজার থেকে কেনা মাখনে পর্যাপ্ত পুষ্টিগুণ নাও থাকতে পারে। তবে ঘরে বানানো মাখনেই বেশি স্বাস্থ্যকর। প্রতিদিনের দুধ থেকে মালাই বা দুধের সর আলাদা করে জমিয়ে রাখুন। নরমাল ফ্রিজে এই মালাই ২-৩ দিন রাখতে পারবেন। তবে ড্রিপ ফ্রিজে এটি ১০-১৫ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারবেন। এবার একটি ফুড প্রসেসর নিয়ে মালাই দিয়ে দিন। এর সাথে আধা কাপ পানি দিয়ে ব্লেন্ড করুন (একটি বড় বোলের এক বোল দুধের সর বা মালাইয়ের জন্য আধকাপ পানি)। ২ মিনিট ব্লেন্ড করুন।এভাবেই ঘরেই মাখন বানিয়ে নিতে পারেন।

আবার চাইলে যদি মাখন লবাণক্ত করতে চান, তবে এর সাথে এক চিমটি লবণ দিয়ে দিতে পারেন। এবার একটি পাত্রে মাখন ঢেলে নিন। মাখন হাত দিয়ে বল বানিয়ে বাড়তি পানি বের করে ফেলুন।

তবে বাজারে আপনি যে মাখনটি পান করেন তা হল দুধের প্রোটিন, এটি প্রক্রিয়াজাতকৃত এবং এতে লবন থাকে না।

ঘি আর মাখনের স্বাস্থ্য উপকারিতা

ঘি-তে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে এবং অন্যান্য উপাদানের চেয়ে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ই’-এর চমৎকার উৎস ঘি। তাছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম মাখনে ৭১৭ কিলো ক্যালরি শক্তি, ৫১ শতাংশ অপরিশোধিত চর্বি ও অন্যান্য উপাদান রয়েছে। অন্যদিকে একই পরিমাণ ঘি’য়ে ৯০০ কিলো ক্যালরি, ৬০ শতাংশ অপরিশোধিত চর্বি ও অন্যান্য উপাদান রয়েছে।

খাবারে স্বাদ বাড়াতে ঘি এবং মাখনের ব্যবহার

ঘি এবং মাখন এ দুটোরই রয়েছে আলাদা স্বাদ এবং ব্যবহার। তাছাড়া রান্না ও খাবার দিক থেকে ঘি এবং মাখনের রয়েছে বিচিত্র ব্যবহার। ভারতবর্ষে এক সময় প্রায় সব ধরনের রান্নায় ঘি ব্যবহার করা হত। যেমন ডাল, মাংস সহ নানান পদে। বিশেষ অনুষ্ঠানে পরোটা, সুজি এবং বিভিন্ন হালুয়াতে ব্যবহার করা হয়। এর কারণ ঘি উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে ।

সাদা সস বা ব্যাচামেলের মত দ্রুত সস তৈরির সময় সাধারণত মাখনের ব্যবহার হয়। এছাড়াও স্বাদ বৃদ্ধির জন্য মাখন সবজি, মাছ এবং মাংস রান্নাতেও ব্যবহার করা হয়। ঘি সরাসরি খাওয়া না গেল মাখন সরাসরি পাউরুটির সাথে বা স্যান্ডউইচের সাথে খাওয়া যায়।

উৎস : অর্থসূচক

অর্থসূচক/টি এম/ কে এম

Comments

Popular posts from this blog

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শক্তি বৃদ্ধিকারী কিছু খাবার

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। মানুষের এমন কোনো সমস্যা বা এমন কোনো দিক ও বিষয় নেই ইসলাম যে ব্যাপারে সমাধান বা পথ-নির্দেশনা প্রদান করেনি। একজন পুরুষ এবং একজন নারীর বৈধ সম্পর্ক-বিবাহের মাধ্যেম একটি পবিত্র সংসার রচিত হয়। একটি দাম্পত্য জীবনের সূচনা এবং যাপন নিশ্চত হয়। একটি সংসার বা একটি দাম্পত্য জীবনের নানান মৌলিক উপাদান-বিষয়ের মাঝে স্বামী-স্ত্রী যৌন জীবন অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।একজন স্বামী বা একজন স্ত্রী দাম্পত্য জীবনের এই যৌন আয়োজনে সুখি না হলে কোনো ভাবেই সুখি হয় না তাদের দাম্পত্য জীবন। যদিও একটি বিবাহ বা একটি সংসার-দাম্পত্য জীবনের মূল উদ্দেশ্য যৌনতা নয় তবুও মৌলিক এই উপাদানের অভাবে অনেক সময়ই ভেঙ্গে যায় অনেক সংসার। অথচ যৌন শক্তিকেন্দ্রিক এই অভাব-অক্ষমতা কিন্তু চিরস্থায়ী কোনো সমস্যা নয়। অনেক পুরুষ বা নারী নিজের অশুভ কর্মফলের কারণে এমন সমস্যায় ভোগেন আবার অনেকে এমন অভাব-অক্ষমতার শিকার হন বিভিন্ন পারিপার্শিক কারণে। কারণ যাই হোক সমস্যার সমাধান রয়েছে এবং ইসলাম এই প্রকারের সমস্যার সমাধানে বেশ গুরুত্ব প্রদানকরেছে। আল্লাহ মহানের সৃষ্টি অপার। মানুষের খাদ্য-পানীয় হিসেবে অসংখ্য-অ...
হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে রেজার মাসিক আয় প্রায় ৩ লাখ টাকা January 9, 2020 ...
  ট্রাইকোডার্মাঃ ট্রাইকোডার্মা হচ্ছে মাটিতে মুক্তভাবে বসবাসকারি উপকারি ছত্রাক- যা উদ্ভিদের শিকড়স্থ মাটি, পঁচা আবর্জনা ও কম্পোস্ট ইত্যাদিতে অধিক পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি মাটিতে বসবাসকারি উদ্ভিদের ক্ষতিকর জীবাণু যেমন- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও নেমাটোডকে মেরে ফেলে। ট্রাইকোডার্মা প্রকৃতি থেকে আহরিত এমনই একটি অণুজীব যা জৈবিক পদ্ধতিতে উদ্ভিদের রোগ দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাইকোডার্মা বায়োপেস্টিসাইডটি প্রথম আবিষ্কার করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড.মো.বাহাদুর মিয়া যা ২০১৩ সালের জুন মাসে বগুড়া আরডিএ ল্যাবরেটরীতে গবেষণার মাধ্যমে কৃষকদের ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়। ট্রাইকোডার্মার ব্যবহার ও উপকারিতা: এটি ট্রাইকো-সাসপেনশন, পাউডার এবং পেস্ট আকারে উৎপাদন সম্ভব। নিয়মানুযায়ী স্প্রে করলেই এর কার্যকারিতা পাওয়া যায়। পঁচা আবর্জনায় ‘ট্রাইকো-সাসপেনশন’- এর জলীয় দ্রবণ মিশিয়ে দ্রুত সময়ে ট্রাইকো-কম্পোস্ট উৎপাদন করা সম্ভব। এটি সহজলভ্য হওয়ায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। এর ব্যবহারে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব।...