Skip to main content

ড্রাগন চাষে ফরিদপুরে সফলতা

সাজ্জাদ বাবু, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:২৮
ফরিদপুর জেলার মাটি ও আবহাওয়া চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় সম্প্রতি বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে ড্রাগন ফল চাষ। এরই মাঝে ড্রাগন চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন ফরিদপুরের চাষিরা। 
বাজারে ফলের ভাল দাম ও চাহিদা থাকায় দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্রাগন ফলের চাষ। সব ধরনের উঁচু জমিতেই ড্রাগন ফলের চাষ করা যায়। উচ্চ ফলনশীল ও অধিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে এখন জেলার নয়টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। মিষ্টি ও টক-মিষ্টি স্বাদের ড্রাগন ফলে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা ও প্রসাধনী গুণ থাকায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ডায়াবেটিস ও খারাপ কোলেস্টেরল কমায় ড্রাগন। এতে প্রচুর আঁশ থাকায় হজম শক্তি বাড়াতে ও চর্বি কমাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ক্যারোটিন থাকায় স্মৃতি শক্তি ও চোখের জ্যোতি বাড়ায়। ভিটামিন বি-২ থাকায় ক্ষুধা বাড়ায় ও স্বাভাবিক কর্মপন্থা উন্নত করে এবং রক্তে গ্লকোজের মাত্রা কমায়। এ ফলে বি সিটোস্টরেল থাকায় হাইপার টেনশন কমায়। ত্বকের মসৃণতা ও আর্দ্রতা ধরে রাখে। ভিটামিন বি-৩ থাকায় শরীরের রক্ত প্রবাহ বাড়ায়, খারাপ কোলেস্টেরল ও রক্ত চাপ কমায়। রক্তের শিরা প্রশস্ত করে ও মাইগ্রেনের ব্যথা কমায়। এটি ভিয়েতনামের জাতীয় ফল ড্রাগন হলেও সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে এই ফলের আবাদ শুরু হয়েছে। এছাড়া ড্রাগনের সাদা শাঁসের রস প্রসাধন গুণের আঁধার।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, যেসব জমিপূর্ণ সূর্যলোক পায়। বর্ষায় পানি উঠে না বা স্যাঁতস্যাঁতে থাকে না- এমন স্থানে ড্রাগন ফলের চাষ করা সহজ। বাগান করার মাত্র নয় মাসের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। এক একটি ফলের ওজন ২০০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। তবে ৪/৫ বছরের একটির পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে এক কেজি পর্যন্ত ওজনের ড্রাগন ফল পাওয়া সম্ভব হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে বছরে ৮০ কেজি পর্যন্ত ফলন হতে পারে।
হর্টিকালচার সেন্টারের সহযোগিতায় ইঞ্জিনিয়ার জামাল মুন্সী, বাবর আলী, বিমল রায়, জাকির হোসেন, ওহিদ সরদার, তুহিন শেখ, জাহাঙ্গীর মোল্যাসহ প্রায় দুই শতাধিক চাষি বাণিজ্যিক ড্রাগন ফলের চাষ সাফল্য পেয়েছে। পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১০০ থেকে ১৩০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। উপযুক্ত পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা ও সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে একটি গাছ হতে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে।
কৃষক জাকির হোসেন বলেন, ড্রাগন একটি লাভজনক ফল। ড্রাগন চাষে তেমন একটা রাসায়নিক সার লাগে না। পরিচর্যাও করতে হয় কম। এ বছর ফলন ভাল হয়েছে। ভাল লাভ পেয়েছি। আমাদের বাগান দেখে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছে। অনেকে নতুন নতুন বাগান শুরু করেছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমরা আরও ভাল করতে পারব।
ফরিদপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক জানান, ড্রাগন ফলটি ফরিদপুর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০১৫ সাল থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে উপকরণ, প্রাথমিক খরচ প্রদান করে ড্রাগন ফল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আমরা ৫০টি প্রদর্শনী দিয়েছি। দুই শত কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাগান করার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ওই চাষিরা এখন ফল পাচ্ছে। বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
(ঢাকাটাইমস/১৬অক্টোবর/এলএ)

Comments

Popular posts from this blog

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শক্তি বৃদ্ধিকারী কিছু খাবার

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। মানুষের এমন কোনো সমস্যা বা এমন কোনো দিক ও বিষয় নেই ইসলাম যে ব্যাপারে সমাধান বা পথ-নির্দেশনা প্রদান করেনি। একজন পুরুষ এবং একজন নারীর বৈধ সম্পর্ক-বিবাহের মাধ্যেম একটি পবিত্র সংসার রচিত হয়। একটি দাম্পত্য জীবনের সূচনা এবং যাপন নিশ্চত হয়। একটি সংসার বা একটি দাম্পত্য জীবনের নানান মৌলিক উপাদান-বিষয়ের মাঝে স্বামী-স্ত্রী যৌন জীবন অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।একজন স্বামী বা একজন স্ত্রী দাম্পত্য জীবনের এই যৌন আয়োজনে সুখি না হলে কোনো ভাবেই সুখি হয় না তাদের দাম্পত্য জীবন। যদিও একটি বিবাহ বা একটি সংসার-দাম্পত্য জীবনের মূল উদ্দেশ্য যৌনতা নয় তবুও মৌলিক এই উপাদানের অভাবে অনেক সময়ই ভেঙ্গে যায় অনেক সংসার। অথচ যৌন শক্তিকেন্দ্রিক এই অভাব-অক্ষমতা কিন্তু চিরস্থায়ী কোনো সমস্যা নয়। অনেক পুরুষ বা নারী নিজের অশুভ কর্মফলের কারণে এমন সমস্যায় ভোগেন আবার অনেকে এমন অভাব-অক্ষমতার শিকার হন বিভিন্ন পারিপার্শিক কারণে। কারণ যাই হোক সমস্যার সমাধান রয়েছে এবং ইসলাম এই প্রকারের সমস্যার সমাধানে বেশ গুরুত্ব প্রদানকরেছে। আল্লাহ মহানের সৃষ্টি অপার। মানুষের খাদ্য-পানীয় হিসেবে অসংখ্য-অ...
  ট্রাইকোডার্মাঃ ট্রাইকোডার্মা হচ্ছে মাটিতে মুক্তভাবে বসবাসকারি উপকারি ছত্রাক- যা উদ্ভিদের শিকড়স্থ মাটি, পঁচা আবর্জনা ও কম্পোস্ট ইত্যাদিতে অধিক পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি মাটিতে বসবাসকারি উদ্ভিদের ক্ষতিকর জীবাণু যেমন- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও নেমাটোডকে মেরে ফেলে। ট্রাইকোডার্মা প্রকৃতি থেকে আহরিত এমনই একটি অণুজীব যা জৈবিক পদ্ধতিতে উদ্ভিদের রোগ দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাইকোডার্মা বায়োপেস্টিসাইডটি প্রথম আবিষ্কার করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড.মো.বাহাদুর মিয়া যা ২০১৩ সালের জুন মাসে বগুড়া আরডিএ ল্যাবরেটরীতে গবেষণার মাধ্যমে কৃষকদের ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়। ট্রাইকোডার্মার ব্যবহার ও উপকারিতা: এটি ট্রাইকো-সাসপেনশন, পাউডার এবং পেস্ট আকারে উৎপাদন সম্ভব। নিয়মানুযায়ী স্প্রে করলেই এর কার্যকারিতা পাওয়া যায়। পঁচা আবর্জনায় ‘ট্রাইকো-সাসপেনশন’- এর জলীয় দ্রবণ মিশিয়ে দ্রুত সময়ে ট্রাইকো-কম্পোস্ট উৎপাদন করা সম্ভব। এটি সহজলভ্য হওয়ায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। এর ব্যবহারে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব।...

মাছের খাবার তৈরী মেশিন ও উৎপাদন খরচ

ভাসমান মাছের খাবার তৈরী মেশিন: নিজেই মাছের ভাসমান খাবার তৈরী এবং মুনাফার বিবরণ : বর্তমান বাজারে দেখা যায় বাজারে মাছের প্যাকেটজাত খাবারের সর্বনিম্ন দাম ৩৬ টাকা আর সর্বচ্চ ৫২ টাকা। অথচ আপনি একটু বুদ্ধি করলেই নিজেই অনেক ভাল মানের এই খাবার বানাতে পারেন এখন ২৬ টাকায়। যদি ৩০ টাকা কেজি প্রতি খরচ করেন তাহলে বানাতে পারেন হাইগ্রেডের মান সম্পন্ন খাবার। ২৬ টাকা কেজি দরে ভাল মানের মাছের খাবার কি কি উপাদান দিয়ে বানাবেন? ১১৫০ কেজির একটা হিসাব দিলাম আজকের ২৭ই জানুয়ারি ২০১৭ বাজার দরর বিবেচনা করে।  রাইস ব্রান: ৪০০*২০ = ৮০০০ টাকা, খৈল: ১৫০ *৩০.৮০ = ৪৬২০ টাকা, ভুট্টা= ১৫০*১৭= ২৫৫০ টাকা, আটা: ১৫০*১৭= ২৫৫০ টাকা, শুটকী: ২০০*৫২= ১০৪০০ টাকা, ঝিনুক গুড়া/ ক্যালসিয়াম: ১০০*৭= ৭০০ টাকা, মেশিনে বানানো খরচ: ১৫০০ টাকা। মোট= ৩০৩২০ টাকা/১১৫০ কেজি।প্রতি কেজির দাম পড়ে ২৬.৩৬ টাকা।  যদি ৩০ টাকার মধ্যে হাইগ্রেড/টপগ্রেডের মাছের খাবার বানাতে চান: রাইস ব্রান: ৪০০*২০ = ৮০০০ টাকা, খৈল: ১৫০ *৩০.৮০ = ৪৬২০ টাকা, ভুট্টা= ১৫০*১৭= ২৫৫০ টাকা, আটা: ১৫০*১৭= ২৫৫০ টাকা, শুটকী: ২০০*৫২= ১০৪০০ টাকা, চিটাগুড় বা মোলাসেস ...