Skip to main content

চাকুরি ছেড়ে মাছ চাষে লাখপতি রায়হান

চাকুরি ছেড়ে মাছ চাষে লাখপতি রায়হান
চাকুরি ছেড়ে মাছ চাষে লাখপতি হয়েছেন রায়হান। ময়মনসিংহ সদরের দাপুনিয়ায় মাছ করে এমন সফলতা পেয়েছেন তিনি। চাকুরি ছেড়ে দিয়ে পুরোদমে মাছ চাষ করেন তিনি। মাছ চাষের শুরুতে বাড়ির ছোট একটি পুকুরে চাষ শুরু করেন মনোসেক্স তেলাপিয়ার। তবে তিনি সফল হননি সেখানে, করেছেন লোকসান।
এরপর তিনি মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এইচ এম কোহিনুরের পরামর্শে শুরু করেন শিং মাছ চাষ। গত বছরের জুনে ৩২ শতাংশের একটি পুকুরে এক লাখ ৬০ হাজার শিং মাছের পোনা ছাড়েন তিনি। এতে তার মোট ব্যয় হয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
রায়হান বলেন, বাজারজাত করার সময় মাছগুলোর ওজন হয় ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম। সব মিলিয়ে ৯ হাজার কেজি মাছ উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা। কেজি প্রতি মাছের পাইকারি মূল্য ২৮০ টাকা দরে ২৫ লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে। ব্যয় বাদ দিয়ে মোট লাভ হয়েছে ১১ লাখ টাকা।
কম জমিতে অধিক মাছ চাষ করে বেশি লাভ হওয়ায় নিবিড় পদ্ধতিতে শিং মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে পুরো ময়মনসিংহ অঞ্চলজুড়ে। আগে পুরাতন পদ্ধতিতে পুকুরে মাছ চাষ করে প্রায় প্রতি বছরই লোকসানের মুখে পড়তে হতো অধিকাংশ চাষিদের। তবে এখন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নেয়ার মাধ্যমে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন তারা।
আরেক মাছ চাষি আব্দুল্লাহ হেল কাফি ২ বছর দেশি মাছ চাষ করে লাখ টাকা লোকসানে পড়েন। পরে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঙ্গাস মাছের চাষ শুরু করেন। সেখানেও সফলতার মুখ দেখেননি। এরপর নিবিড় পদ্ধতিতে শিং মাছ ও পাবদা মাছ চাষ করে সফলতার মুখ দেখেন তিনি।
জনাব কাফি বলেন, তার ৮০ শতাংশ পুকুরে পাবদা মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। ৬ মাসের মধ্যে মাছগুলো বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। উৎপাদন খরচ মোট ৬ লাখ টাকা হলেও বিক্রি হয়েছে প্রায় ১১ লাখ টাকার বেশি। এতে লাভ হয়েছে ৫ লাখ টাকা।
মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এইচ এম কোহিনুর বলেন,  প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়ত মাছ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর এগুলোর মধ্যে নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষে ব্যাপক সফলতা পাওয়া যাচ্ছে।

Comments

Popular posts from this blog

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শক্তি বৃদ্ধিকারী কিছু খাবার

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। মানুষের এমন কোনো সমস্যা বা এমন কোনো দিক ও বিষয় নেই ইসলাম যে ব্যাপারে সমাধান বা পথ-নির্দেশনা প্রদান করেনি। একজন পুরুষ এবং একজন নারীর বৈধ সম্পর্ক-বিবাহের মাধ্যেম একটি পবিত্র সংসার রচিত হয়। একটি দাম্পত্য জীবনের সূচনা এবং যাপন নিশ্চত হয়। একটি সংসার বা একটি দাম্পত্য জীবনের নানান মৌলিক উপাদান-বিষয়ের মাঝে স্বামী-স্ত্রী যৌন জীবন অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।একজন স্বামী বা একজন স্ত্রী দাম্পত্য জীবনের এই যৌন আয়োজনে সুখি না হলে কোনো ভাবেই সুখি হয় না তাদের দাম্পত্য জীবন। যদিও একটি বিবাহ বা একটি সংসার-দাম্পত্য জীবনের মূল উদ্দেশ্য যৌনতা নয় তবুও মৌলিক এই উপাদানের অভাবে অনেক সময়ই ভেঙ্গে যায় অনেক সংসার। অথচ যৌন শক্তিকেন্দ্রিক এই অভাব-অক্ষমতা কিন্তু চিরস্থায়ী কোনো সমস্যা নয়। অনেক পুরুষ বা নারী নিজের অশুভ কর্মফলের কারণে এমন সমস্যায় ভোগেন আবার অনেকে এমন অভাব-অক্ষমতার শিকার হন বিভিন্ন পারিপার্শিক কারণে। কারণ যাই হোক সমস্যার সমাধান রয়েছে এবং ইসলাম এই প্রকারের সমস্যার সমাধানে বেশ গুরুত্ব প্রদানকরেছে। আল্লাহ মহানের সৃষ্টি অপার। মানুষের খাদ্য-পানীয় হিসেবে অসংখ্য-অ...
হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে রেজার মাসিক আয় প্রায় ৩ লাখ টাকা January 9, 2020 ...
  ট্রাইকোডার্মাঃ ট্রাইকোডার্মা হচ্ছে মাটিতে মুক্তভাবে বসবাসকারি উপকারি ছত্রাক- যা উদ্ভিদের শিকড়স্থ মাটি, পঁচা আবর্জনা ও কম্পোস্ট ইত্যাদিতে অধিক পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি মাটিতে বসবাসকারি উদ্ভিদের ক্ষতিকর জীবাণু যেমন- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও নেমাটোডকে মেরে ফেলে। ট্রাইকোডার্মা প্রকৃতি থেকে আহরিত এমনই একটি অণুজীব যা জৈবিক পদ্ধতিতে উদ্ভিদের রোগ দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাইকোডার্মা বায়োপেস্টিসাইডটি প্রথম আবিষ্কার করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড.মো.বাহাদুর মিয়া যা ২০১৩ সালের জুন মাসে বগুড়া আরডিএ ল্যাবরেটরীতে গবেষণার মাধ্যমে কৃষকদের ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়। ট্রাইকোডার্মার ব্যবহার ও উপকারিতা: এটি ট্রাইকো-সাসপেনশন, পাউডার এবং পেস্ট আকারে উৎপাদন সম্ভব। নিয়মানুযায়ী স্প্রে করলেই এর কার্যকারিতা পাওয়া যায়। পঁচা আবর্জনায় ‘ট্রাইকো-সাসপেনশন’- এর জলীয় দ্রবণ মিশিয়ে দ্রুত সময়ে ট্রাইকো-কম্পোস্ট উৎপাদন করা সম্ভব। এটি সহজলভ্য হওয়ায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। এর ব্যবহারে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব।...