Skip to main content

দেশের সেরা ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তা রেজওয়ানুল

দেশের সেরা ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তা রেজওয়ানুল
দেশের সেরা ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়েছেন রেজওয়ানুল ইসলাম। অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে এগিয়ে চলছে ২১ বছর বয়সী রেজওয়ানুল ইসলাম। লেখাপড়া শেষ করে আর দশজনের মতো তিনিও পারতেন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির জীবন বেছে নিতে। কিন্তু না, কিছু মানুষ ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন। নিজের উদ্যম, সাহস আর সৃষ্টিশীলতা দিয়ে তৈরি করেন নতুন পথ। রেজওয়ানুল এ গোত্রেরই।
রেজওয়ানুল এ বছর দেশ সেরা শ্রেষ্ঠ তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পুরস্কার পেয়েছেন। পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) উদ্ভাবিত ‘ট্রাইকোডার্মা প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে ‘ট্রাইকো-জৈব সার’ উৎপাদন ও বিপণন তাকে এনে দিয়েছে এই পুরস্কার। তবে এই সফলতার পেছনে রয়েছে শ্রম ও আনন্দ সুখের এক উপাখ্যান। তিনি জানিয়েছেন নিছক শখের বসে কাজ করতে গিয়ে তার সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সেই গল্প।
রেজওয়ানুল ইসলাম বগুড়ার ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ি গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। স্ব-উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় রেজওয়ান কৃষিতে সফল হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের গ্রামে শুরু করেন ছোট্ট পরিসরে মাছ চাষ দিয়ে। পরে গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ৪ বছর মেয়াদী কৃষি ডিপ্লোমা শেষে পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে ‘ট্রাইকো জৈব সার’ উৎপাদনের প্রশিক্ষণ নেন।
এরপর নিজ গ্রামে ২০ শতক জায়গার ওপর সাড়ে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলেন গ্রিন অ্যাগ্রো ফার্ম। সেখানে তিনি উৎপাদন শুরু করেন ট্রাইকো জৈব সার। ‘ট্রাইকো জৈব সার’ মাটিতে বসবাসকারী উপকারী অনুজীবের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্ষতিকর ছত্রাককে ধ্বংস করে ফসলের উৎপাদন ও গুণগতমান বাড়িয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
২০১৬ সাল থেকে তিনি ঢাকায় ছাদ বাগান নিয়ে কাজ শুরু করেন। ছাদ বাগানগুলোতে পেয়ারা, আম, ডালিম, মালটা, পেঁপে, তরমুজ, বরইসহ নানা ফলের চাষ করা হয়। এ ছাড়াও মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙা, টমেটো, মরিচ, আলু, পেঁয়াজ, বেগুন চাষ করা হয়। ট্রাইকো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করায় উৎপাদিত ফসলগুলো হয় একদম বিষমুক্ত (অর্গানিক)।
শুধু ঢাকার ছাদ বাগানগুলোতেই নয় রেজওয়ানুলের নিজ গ্রামসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার কৃষকরা কিনে নেন ট্রাইকো কম্পোস্ট সার। গ্রিন অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে প্রতিবছর প্রায় ১০০ টন সার বিক্রি করা হয়। বর্তমানে এ ফার্মে নারী-পুরুষসহ আটজন শ্রমিক কাজ করেন। সার উৎপাদন ছাড়াও তার রয়েছে গরুর খামার ও ৪টি পুকুর। পুকুরগুলোতেও রেজওয়ানুল অর্গানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন।
তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ২০১৮ এর জরিপে শ্রেষ্ঠ তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি ক্রেস্ট দেওয়া হয় তাকে। ২০০টির মতো ছাদ বাগানে ট্রাইকো জৈব সার সরবরাহ করার জন্য ঢাকার রামপুরার বনশ্রীতে অফিস রয়েছে তার। ট্রাইকো জৈব সার, গরুর খামার ও পুকুরে মাছ চাষ করে তার মাসিক গড় আয় প্রায় ১ লাখ টাকা। তরুণ এ উদ্যোক্তাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছেন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) ও ধুনট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

Comments

Popular posts from this blog

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শক্তি বৃদ্ধিকারী কিছু খাবার

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। মানুষের এমন কোনো সমস্যা বা এমন কোনো দিক ও বিষয় নেই ইসলাম যে ব্যাপারে সমাধান বা পথ-নির্দেশনা প্রদান করেনি। একজন পুরুষ এবং একজন নারীর বৈধ সম্পর্ক-বিবাহের মাধ্যেম একটি পবিত্র সংসার রচিত হয়। একটি দাম্পত্য জীবনের সূচনা এবং যাপন নিশ্চত হয়। একটি সংসার বা একটি দাম্পত্য জীবনের নানান মৌলিক উপাদান-বিষয়ের মাঝে স্বামী-স্ত্রী যৌন জীবন অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।একজন স্বামী বা একজন স্ত্রী দাম্পত্য জীবনের এই যৌন আয়োজনে সুখি না হলে কোনো ভাবেই সুখি হয় না তাদের দাম্পত্য জীবন। যদিও একটি বিবাহ বা একটি সংসার-দাম্পত্য জীবনের মূল উদ্দেশ্য যৌনতা নয় তবুও মৌলিক এই উপাদানের অভাবে অনেক সময়ই ভেঙ্গে যায় অনেক সংসার। অথচ যৌন শক্তিকেন্দ্রিক এই অভাব-অক্ষমতা কিন্তু চিরস্থায়ী কোনো সমস্যা নয়। অনেক পুরুষ বা নারী নিজের অশুভ কর্মফলের কারণে এমন সমস্যায় ভোগেন আবার অনেকে এমন অভাব-অক্ষমতার শিকার হন বিভিন্ন পারিপার্শিক কারণে। কারণ যাই হোক সমস্যার সমাধান রয়েছে এবং ইসলাম এই প্রকারের সমস্যার সমাধানে বেশ গুরুত্ব প্রদানকরেছে। আল্লাহ মহানের সৃষ্টি অপার। মানুষের খাদ্য-পানীয় হিসেবে অসংখ্য-অ...
  ট্রাইকোডার্মাঃ ট্রাইকোডার্মা হচ্ছে মাটিতে মুক্তভাবে বসবাসকারি উপকারি ছত্রাক- যা উদ্ভিদের শিকড়স্থ মাটি, পঁচা আবর্জনা ও কম্পোস্ট ইত্যাদিতে অধিক পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি মাটিতে বসবাসকারি উদ্ভিদের ক্ষতিকর জীবাণু যেমন- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও নেমাটোডকে মেরে ফেলে। ট্রাইকোডার্মা প্রকৃতি থেকে আহরিত এমনই একটি অণুজীব যা জৈবিক পদ্ধতিতে উদ্ভিদের রোগ দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাইকোডার্মা বায়োপেস্টিসাইডটি প্রথম আবিষ্কার করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড.মো.বাহাদুর মিয়া যা ২০১৩ সালের জুন মাসে বগুড়া আরডিএ ল্যাবরেটরীতে গবেষণার মাধ্যমে কৃষকদের ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়। ট্রাইকোডার্মার ব্যবহার ও উপকারিতা: এটি ট্রাইকো-সাসপেনশন, পাউডার এবং পেস্ট আকারে উৎপাদন সম্ভব। নিয়মানুযায়ী স্প্রে করলেই এর কার্যকারিতা পাওয়া যায়। পঁচা আবর্জনায় ‘ট্রাইকো-সাসপেনশন’- এর জলীয় দ্রবণ মিশিয়ে দ্রুত সময়ে ট্রাইকো-কম্পোস্ট উৎপাদন করা সম্ভব। এটি সহজলভ্য হওয়ায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। এর ব্যবহারে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব।...

মাছের খাবার তৈরী মেশিন ও উৎপাদন খরচ

ভাসমান মাছের খাবার তৈরী মেশিন: নিজেই মাছের ভাসমান খাবার তৈরী এবং মুনাফার বিবরণ : বর্তমান বাজারে দেখা যায় বাজারে মাছের প্যাকেটজাত খাবারের সর্বনিম্ন দাম ৩৬ টাকা আর সর্বচ্চ ৫২ টাকা। অথচ আপনি একটু বুদ্ধি করলেই নিজেই অনেক ভাল মানের এই খাবার বানাতে পারেন এখন ২৬ টাকায়। যদি ৩০ টাকা কেজি প্রতি খরচ করেন তাহলে বানাতে পারেন হাইগ্রেডের মান সম্পন্ন খাবার। ২৬ টাকা কেজি দরে ভাল মানের মাছের খাবার কি কি উপাদান দিয়ে বানাবেন? ১১৫০ কেজির একটা হিসাব দিলাম আজকের ২৭ই জানুয়ারি ২০১৭ বাজার দরর বিবেচনা করে।  রাইস ব্রান: ৪০০*২০ = ৮০০০ টাকা, খৈল: ১৫০ *৩০.৮০ = ৪৬২০ টাকা, ভুট্টা= ১৫০*১৭= ২৫৫০ টাকা, আটা: ১৫০*১৭= ২৫৫০ টাকা, শুটকী: ২০০*৫২= ১০৪০০ টাকা, ঝিনুক গুড়া/ ক্যালসিয়াম: ১০০*৭= ৭০০ টাকা, মেশিনে বানানো খরচ: ১৫০০ টাকা। মোট= ৩০৩২০ টাকা/১১৫০ কেজি।প্রতি কেজির দাম পড়ে ২৬.৩৬ টাকা।  যদি ৩০ টাকার মধ্যে হাইগ্রেড/টপগ্রেডের মাছের খাবার বানাতে চান: রাইস ব্রান: ৪০০*২০ = ৮০০০ টাকা, খৈল: ১৫০ *৩০.৮০ = ৪৬২০ টাকা, ভুট্টা= ১৫০*১৭= ২৫৫০ টাকা, আটা: ১৫০*১৭= ২৫৫০ টাকা, শুটকী: ২০০*৫২= ১০৪০০ টাকা, চিটাগুড় বা মোলাসেস ...